বেসরকারি খাতে পুঁজির চাহিদা শূন্যের কোটায়

ব্যাংক থেকেও ঋণ যাচ্ছে না, তালিকাভুক্ত হচ্ছে না পুঁজিবাজারেও

দেশে নতুন বিনিয়োগ কার্যত থমকে গেছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না আসায় সামগ্রিক অর্থনীতিও এখন বেশ স্থবির। রুটিন কর্মকাণ্ডের বাইরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে না সরকার।

দেশে নতুন বিনিয়োগ কার্যত থমকে গেছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না আসায় সামগ্রিক অর্থনীতিও এখন বেশ স্থবির। রুটিন কর্মকাণ্ডের বাইরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে না সরকার। নতুন শিল্প স্থাপন কিংবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেই বেসরকারি খাতেও। এ পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আবার পুঁজিবাজারেও কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের জুনেই দেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছিল। আর জুলাইয়ে এসে প্রবৃদ্ধি নয়, বরং বেসরকারি খাতের ঋণ স্থিতি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস তথা জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এ ঋণ স্থিতি ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি না হয়ে বরং ঋণাত্মক ধারায় নেমে গেছে। এক্ষেত্রে ঋণের স্থিতি কমেছে ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তিন অর্থবছর ধরেই সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকোচনমুখিতার অংশ হিসেবে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষে সে লক্ষ্যের ধারে-কাছেও যেতে পারেনি দেশের ব্যাংক খাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে এনে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু জুলাই শেষে এ লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি অর্থবছরের একই মাস পর্যন্ত এক বছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে।

বেসরকারি খাতের বিরাজমান ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন বলে আখ্যায়িত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। সরকারের এ বিভাগের সেপ্টেম্বরের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক’-এ বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে থাকা এ প্রবৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতির প্রতিফলন।

জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মুহূর্তে অর্থনীতির অন্যতম দুর্বল দিক হলো উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি। নতুন অর্থবছর শুরুর প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকেও কম। আগস্টে বাস্তবায়ন সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবে সামগ্রিক অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে রাজস্ব খাতেও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। আগস্টে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৭ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আয় ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে, যা কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘ পথ বাকি বলে জিইডির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সুদহার কমানোসহ ব্যাংক খাতের বিরাজমান সংকট নিরসনের দাবি নিয়ে কয়েক দফায় ব্যবসায়ী নেতারা গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারা। সম্প্রতি বড় ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পৃথক এ বৈঠকগুলোয় ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

বিরাজমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানান ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। সম্প্রতি বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছি, তারা বিদ্যমান ব্যবসা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়, সে চেষ্টা করছি। ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো প্রকল্প নেয়ার কথা কেউ ভাবছে বলে আমার জানা নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকার কারো সঙ্গে আলোচনায়ও বসছে না।’

আজম জে চৌধুরী দীর্ঘদিন বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এখনো ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া এখন অনেকটাই দুর্লভ বিষয়। আর এত উচ্চ সুদ আর ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে নতুন ব্যবসা করাও বেশ কঠিন। সরকার কারো সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়াই বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বেসরকারি খাতের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। এভাবে চলতে পারে না।’

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার (রেপো রেট)। এর পর থেকে ক্রমাগতভাবে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ছে। নীতি সুদহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এ নীতি সুদহার এখনো বহাল রয়েছে। নগদ টাকার (তারল্য) সংকট ও নীতি সুদহার বাড়ানোর প্রভাবে ২০২৩ সালের জুন থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ছে। ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ থেকে বেড়ে এখন প্রায় ১৬ শতাংশে ঠেকেছে। যদিও সুদহার বৃদ্ধির কোনো সুফল জনগণ পাচ্ছে না। বরং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি যখন সর্বনিম্ন, তখনো মূল্যস্ফীতির হার উসকে উঠতে দেখা গেছে।

অবশ্য মূল্যস্ফীতি না কমলেও সুদহার বৃদ্ধির সুফল বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে কিছু ব্যাংক। উচ্চ সুদের সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড ক্রয় ও ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি সুদ আদায় করে ২০২৪ সালে ভালো ব্যাংকগুলো রেকর্ড পরিমাণ পরিচালন ও নিট মুনাফা করেছে। প্রথম সারির কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছর ওই ব্যাংকগুলোর আয়ের বড় অংশ এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড থেকে। গত বছরজুড়ে বিল-বন্ডের সুদহার ছিল ১১ থেকে ১৩ শতাংশ। উচ্চ সুদে সরকারকে নিরাপদ ঋণ দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, ব্যাংকগুলো সে অর্থে নতুন কোনো ঋণই বিতরণ করছে না। বার্ষিক ভিত্তিতে ঋণের যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, সেটিও অনাদায়ী সুদ ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব থেকে এসেছে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে এতটা খরা এর আগে দেখা যায়নি। যদিও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হলো বেসরকারি খাত। পণ্য উৎপাদন, বিপণন কিংবা সেবা খাতের বড় অংশ বেসরকারি উদ্যোগনির্ভর। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব না হলে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরবে না।

ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিচ্ছে না, উদ্যোক্তারাও নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ ব্যাংক ঋণ শুরু হয় আমদানির এলসি খোলা থেকে। গত দুই বছর আমদানি পরিস্থিতি ভালো নেই। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ব্যাংকগুলো সে অর্থে নতুন কোনো ঋণই দিচ্ছে না। ব্যাংকাররা এখন ঋণ না দিয়ে সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগকে বেশি নিরাপদ ও লাভজনক মনে করছেন। এ কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।’

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত দেড় দশকে বেসরকারি খাতে যে উচ্চ ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল সেটিও অস্বাভাবিক। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ বের করে নেয়া হয়েছে। যে ১১-১২টি বেসরকারি ব্যাংক থেকে অস্বাভাবিক মাত্রায় ঋণ বের হতো, সেগুলো এখন পঙ্গু। পাঁচটি ব্যাংক এখন একীভূত হওয়ার পথে। এ ব্যাংকগুলোর ১ টাকা ঋণ দেয়ার সক্ষমতাও নেই। এ পরিস্থিতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধি না হওয়াটিই বরং স্বাভাবিক।’

কেবল বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংকই নয়, গত ছয় মাসে দেশের সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ স্থিতিও কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার ব্যাংক তথা সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে তা না বেড়ে উল্টো ৮ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা কমেছে। চলতি বছরের জুন শেষে চার ব্যাংকের ঋণ স্থিতি নেমে এসেছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকায়।

সোনালী ব্যাংক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘দেশের বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। বিরাজমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা না চাইলে আমরা ঋণ দেব কোথায়।’

অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেও। দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০। এর মধ্যে উৎপাদন খাতের কোম্পানি রয়েছে ২০০টি। এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্থানীয় ও বহুজাতিক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত এক বছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর ঘোষিত বিনিয়োগের তথ্য পর্যালোচনা করেছে বণিক বার্তা। এতে দেখা যায়, এ সময়কালে মাত্র ১২টি কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এগুলোর মোট ঘোষিত বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ২ হাজার ১১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

দেশে শিল্পায়নে মূলধন জোগানের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান এমনিতেই যৎসামান্য। তার ওপর দেড় বছর ধরে পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘ সময় ধরে পুঁজিবাজার থেকে কোনো অর্থায়ন আসছে না। দেশের পুঁজিবাজারে এত দীর্ঘ সময় ধরে আইপিও না আসার নজির আর কখনো দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ২০২২ সালের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা ভাব দেখা যায়, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পুঁজিবাজারের এ নিম্নমুখিতার কারণে উদ্যোক্তারা কোম্পানির আইপিওতে আসতে আগ্রহ দেখান না। এ বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গিয়েছিল। এ সময় তিন মাসে সূচকে প্রায় ১ হাজার পয়েন্ট যোগ হয়েছিল। তবে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস এখনো দোদুল্যমান থাকায় চলতি মাসে পুঁজিবাজারে ছন্দপতন ঘটতে দেখা গেছে। মাঝে কিছুদিন পুঁজিবাজারের লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালেও বর্তমানে তা আবার হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) নির্বাহী কমিটির একটি মতবিনিময় সভা হয়। বৈঠকে বিএপিএলসির পক্ষ থেকে বলা হয়, পুঁজিবাজারে আইপিওর উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির অভাব রয়েছে। এছাড়া সমন্বিত ডিজিটাল রিপোর্টিং পদ্ধতির অভাব রয়েছে। আবার তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করের পার্থক্যও কম। ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। তাই বাজারের স্বার্থে এসব বিষয়ের সমাধান প্রয়োজন।

এ সময় বিএপিএলসির চেয়ারম্যান রূপালি হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের পুঁজিবাজারকে অনেক বড় করতে হবে। আর বড় করার জন্য কী করতে হবে, এটি নিয়ে আমরা আরো আলোচনা করতে পারি। তাছাড়া আমাদের সমস্যা নিয়ে বেশি আলোচনার চেয়ে সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে বেশি আলোচনা করা জরুরি। নতুন নতুন আইডিয়া ও বিজনেস প্ল্যান দেখে যদি ছোট ছোট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে পারি তবে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে যারা তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলো আরো সহজ করা প্রয়োজন।’

আরও